করোনাকালীন শিক্ষার্থী ও এসাইনমেন্ট মারকিং প্রসঙ্গে: ~ আব্দুল্লাহ তাজরিয়ান

 

করোনাকালীন শিক্ষার্থী ও

এসাইনমেন্ট মারকিং প্রসঙ্গে: ~ আব্দুল্লাহ তাজরিয়ান
-
প্রথমত ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি শ্রদ্ধেয় স্যার ও সজ্জনমহল, আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালবাসা আমার সকল শিক্ষকের প্রতি। তবে আজকে কিছু কড়া কথা বলতে আমি বাধ্য! আলোচনা হবে দুটো ধাপে।
এক। করোনাকালীন শিক্ষার্থী [যাপিত জীবনের অন্তঃপুর]
দুই। এসাইনমেন্ট মারকিং প্রসঙ্গে [কিছু বাস্তব সম্মত গালি]
.
করোনাকালীন শিক্ষার্থী:
[যাপিত জীবনের অন্তঃপুর]
-
আমরা জানি মহামারি করোনা বা কভিট ১৯ এর কারণে প্রায় দীর্ঘ সতেরো কিংবা আঠারো মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে স্ব-শরীরে যোগাযোগ ছাত্রদের ছিলো না! হয়ত মাঝেমধ্যে হলেও সেটা উল্লেখ করার মতো কিছু হয়নি। ফলে জীবন চলার পথে ছাত্রদের বেশকিছু শারিরীক মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে! এটা অস্বীকার করার বিন্দুমাত্র অজুহাত আশাকরি বোদ্ধা মহল তো দূরের কথা প্রান্তিক জনসাধারণেরও থাকবে না! থাকার কথাও না! এবার আসি সমস্যাগুলো কী কী ছিলো।
-বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী ভিডিও গেমাসক্ত হয়েছে।
-পড়াশোনা গোল্লায় গিয়েছে।
-যারা গেমাসক্ত হননি খোঁজ নিলে দেখতে পাবেন প্রতিজন শিক্ষার্থী কোনো বিশেষ বিষয়ে আসক্ত হয়েছে। অর্থাৎ ইসরাফে ভুগছে!
-আরো একটি বিশেষ সমস্যা হলো অনেক শিক্ষার্থীকে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে। কর্মসংস্থানের জোর তাগাদা ছিলো! এবং সেটা করতে পরিবারও বাধ্য ছিলো।
-লাইফস্টাইল বলে একটা শব্দের সাথে আমরা পরিচিত। যেটির বেখাপ্পা পরিবর্তন হয়েছে।
-নিশাচর হয়েছে অগণন শিক্ষার্থী। [সারারাত জাগ্রত, দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুম, অন্যান্য কাজ]
-মানসিক দিক দিয়ে চিন্তা করলে খিটখিটে মেজাজের হয়েছে শিক্ষার্থীরা [সব পরিস্থিতি]
-গ্রামাঞ্চলে কিশোর গ্যাং সমস্যা, আবাসিক এলাকায়ও এটি দেখা যায়।
[কারা কিশোর গ্যাংয়ে যোগ দিচ্ছে অথবা কত বছর বয়সে? বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুগান্তর পত্রিকায় কর্নেল মো. এমরানুল হাসান বিপিএম এর একটি প্রবন্ধে দেখলাম, এদের বয়সসীমা ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যেই বেশি হয়ে থাকে। কিশোর গ্যাংরে সঙ্গে কে কে যুক্ত আছে? সাধারণত প্রতিটি গ্যাংয়ের দৃষ্টি আকর্ষক একটি নির্দিষ্ট নাম ও লোগো থাকে। গ্যাং সদস্যরা সেই নাম ও লোগো শরীরে ট্যাটু করে অথবা দেয়ালে লিখনের প্রবণতাও দেখা যায়। নির্দিষ্ট একটি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে এবং সর্বদা আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করে এরা। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির হিরণময় কিরণে উদ্ভাসিত এ যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্যাংয়ের প্রচার-প্রচারণার নেটওয়ার্ক রয়েছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে সোশ্যাল গ্রুপ আছে! গ্রুপ এডমিন, মডারেটর আছে! তারা গ্যাং সংগঠন নিয়ে গর্ববোধ করে এবং গ্যাং সদস্য হিসাবে পরিচিত হয়ে তৃপ্তি অনুভব করে। ক্ষেত্রবিশেষে গ্যাংয়ে একই ধরণের জামাকাপড় পড়ার স্টাইলও দেখা যায়। কেউ কেউ তো জুয়েলারি ও অলংকার পরিধান করে থাকে! ভাবা যায়? অন্যদিকে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা ছোটোখাটো অস্ত্র যেমন- ছুরি, রামদা, হকিস্টিক, বন্দুক ইত্যাদি সংগ্রহে রাখে। এ সমস্যা ভয়ানক! এজন্য ছোট্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।]
-এভাবে উল্লেখ করতে গেলে অগণন সমস্যা চলে আসবে। সেটা লিখে প্রকাশ করার মতো দুঃসাহস আমার বিন্দুবিসর্গও নাই!
.
কিছু ব্যাখ্যা:
-
বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী ভিডিও গেমাসক্ত। এরা দিনকে দিনকে এমন বলদ হচ্ছে , [বলদ বলতেই বাধ্য আমি] নিজেরাও জানে না কত্তবড় বলদ! পরোয়া করে না, মা-বাবা, বড় ভাইবোনকে পর্যন্ত! কিছু রোগের জন্য কাউন্সেলিং বা বিহেভিয়ার থেরাপি প্রয়োজন হয়। যেমন— এনজাইটি, ডিজঅর্ডার কিংবা ফোবিয়া বা ভয়। অপসেসন কমপালসিভ ডিজঅর্ডার এগুলোর ক্ষেত্রে বিহেভিয়ার থেরাপি লাগে। গেমাসক্ত শিক্ষার্থীদের রাতদিন নাই! খাবার পর্যন্ত এদের দরকার হয় না! মানসিক অসুস্থতার পাশাপাশি শারিরীক সমস্যারও সম্মুখীন হচ্ছে এরা। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের চাহিদা আছে সামর্থ্য নাই, নাহয় এদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ওষুধের পাশাপাশি কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি বা বিহেভিয়ার থেরাপি দরকার আছে! আমার মনে হচ্ছে!
-
আবার যেসব শিক্ষার্থীকে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে, শিক্ষাজীবন ছেড়ে পেশা জীবনে চলে যেতে হয়েছে তাদের অবস্থা তো আরো খারাপ! শিশুশ্রম বেড়ে গিয়েছে! কিশোররা অনৈতিক পথে পা বাড়িয়েছে! হারাম রিলেশনশীপ এখানে মুখ্য সমস্যা!
-
পড়াশোনা গোল্লায় যাওয়া এ সমস্যা নিয়ে বলতে হলে বিশাল বই রচনা করা অসম্ভব না মোটেও! আমার মতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় গ্রামাঞ্চলে নব্বই শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনমুখী পড়াশোনায় অংশগ্রহণ পর্যন্ত করতে পারেনি! যে বা যারা যতো মেধাবী হোক ইন্টারনেট ভিত্তিক পড়াশোনায় স্বস্তি পায়নি। যথাযথ অর্জন হয়নি!
এভাবে লাইফস্টাইল সমস্যা, কিশোর গ্যাং সমস্যা ছোটোখাটো কোনো সমস্যা না, পুরো জনজীবন হুমকির মুখে! আল্লাহ না করুক এ মহামারীর কারণে আত্মহত্যা, গৃহযুদ্ধের মতো ভয়াবহতা অত্যাসন্ন!
.
সারাংশ:
-
মহামারী করোনা, সত্যিকারের জীবন বিনাশী, লাইফস্টাইল তছনছকারী, শিক্ষাব্যবস্থা ধবংসকারী আল্লাহর বড়সড় গজব! এটা শুধু আমার আপনার সমস্যা না! এটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড সমস্যা! এতএব এতবড় সমস্যা আমাদের একার পক্ষে সমাধান করা বিন্দুমাত্রও সম্ভব নয়। এগিয়ে আসতে হবে সর্বস্তরের জনসাধারণকে। একেঅপরের পাশে দাড়াতে হবে! আজকে মূলত ছাত্রদের খন্ডিত কিছু সমস্যা চিত্রায়িত করার চেষ্টা করেছি।
-
দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা:
এসাইনমেন্ট মারকিং প্রসঙ্গে [কিছু বাস্তব সম্মত গালি]
-
আমরা সকলেই জানি শিক্ষাব্যবস্থায় এসাইনমেন্ট পদ্ধতি চালু হয়েছে। এ সিদ্ধান্তটি অবশ্যই বিশেষজ্ঞরা ভালো মনে করেছেন, ছাত্রদের পাঠমুখী করার চেষ্টা করেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই! কিন্তু এটি কতটুকু ফলপ্রসূ হয়েছে সেটাও দেখা দরকার, ভাবা দরকার! আগে অনলাইন ক্লাসের নামে বিশেষ কিছু সিরিজ নাটক চললেও সেটার কোনো সুসার আসেনি, এসেছে অগণন ভিডিও গেমাসক্ত শিক্ষার্থী! সেটা আমিও জানি, আপনিও মানবেন আশাকরি! এসাইনমেন্টের লক্ষ্য ঠিক ছিলো পাঠমুখী শিক্ষার্থী উপহার দেওয়া, কিন্তু অনলাইনে এর প্রচার-প্রসার এবং অনলাইন বেইসড হওয়ার কারণে 'যেই লাউ সেই কদু' অবস্থা! ছাত্ররা আরো জড়সড় হয়ে অনলাইনে পোক্ত হচ্ছে! যারা যা জানতো না; তারা তাতে মনোনিবেশ করছে। এটা ভালোর দিকে হলে ভালো ছিলো, অথচ হিতে বিপরীত হচ্ছে! এবার আসি ভিন্নভাবে। এসাইনমেন্ট মারকিং প্রসঙ্গে। শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, আপনিও জানেন আমিও জানি; এসাইনমেন্টের সকল উত্তর অনলাইনে পাওয়া যায়! আবার উত্তরগুলো আপনাদের মতো অনেক শিক্ষক সাজানও, যাহোক শেখানোটাই লক্ষ্য ছিলো, কিন্তু অনেকেই সেটাকে হুবহু কপি করছে, আবার অনেকে বুদ্ধির জোরে পার পেয়ে যাচ্ছে। এদিকসেদিক সাজিয়ে গুছিয়ে লিখে দিচ্ছে। অথচ সেটাও সমস্যা না! সমস্যা হচ্ছে যখন আপনারা স্কুল কলেজের শিক্ষকরা কিছু ছাত্রদের এসাইনমেন্ট বাতিল করে দিচ্ছেন! নাম্বার একটু কম দিলেন, কেন এটা পারতেন না? এত বাড়াবাড়ি ছাড়াছাড়ির কি আছে?? একটা সহজ বিষয় হচ্ছে, দেখুন আমি সায়েন্সের ছাত্র, পিজিক্সের ম্যাথগুলো কি আমি বানিয়ে লিখবো? ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে না? আমি বেশি হলে এতটুকু পারবো; সবাই যেখানে 'দেওয়া আছে' লিখবে আমি সেখানে 'অর্পিত বা আরোপিত' লিখতে পারবো! আপনি সেটাকে একেঅপরের সাথে মিল করে লিখেছে, কপি করে লিখেছে বলে বাতিল করে দিলে তো চরম কষ্ট লাগবে! ক্ষেত্রে বিশেষে স্যার না ডেকে ষাঁড় ডাকতে ইচ্ছে করবে!
.
আচ্ছা, স্যার আপনি কি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবেন, আপনার ছেলে বা মেয়েটি করোনাকালীন এসময়টাতে যথাযথ পড়াশোনা করেছে? তাদের কি কোনো ঘাটতি নাই? - তাহলে আপনি স্যারের ছেলেমেয়ে হয়ে আমাদের ভাইবোনদের পড়াশোনা যেখানে যথাযথ হয়নি বা করাতে পারেননি, সেখানে ছাত্রদের কাছ থেকে যথাযথ কিভাবে আদায় করতে চান? কিভাবে দাবি করবেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন হয়ে নতুন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে এসাইনমেন্ট লিখবো?
.
শ্রদ্ধেয় স্যারদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, পড়াশোনা নিয়ে আমরা যথেষ্ট চিন্তিত আছি, দয়াকরে আমাদের স্নেহ ভালবাসা দিয়ে কাছে টেনে নিন। এটা শুধু আমার আপনার সমস্যা না! এটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড সমস্যা! এতএব এতবড় সমস্যা আমাদের ছাত্রদের একার পক্ষে সমাধান করা বিন্দুমাত্রও সম্ভব নয়। এগিয়ে আসতে হবে সর্বস্তরের শিক্ষকদের। আপনারা যতো সেক্রিফাইস করতে পারেন, করা সম্ভব; তা কেবল আপনার সন্তানতুল্য ছাত্রদের বাঁচানোই হবে! ভালবাসার পরশে শিক্ষাদান আমরা চাই। প্লিজ স্যার, এসএসসি এইচএসসি'র সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি সদয় হোন। তাদের এসাইনমেন্ট বাতিল করার মতো এমন মহান কাজ করবেন না! প্লিজ! এতে মোটেও বৃহত্তম ইনকিলাব আসবে না! বিশ্বাস করুন স্যার। আসসালামু আলাইকুম।
-

লেখক পরিচিতিঃ

নামঃ আব্দুল্লাহ তাজরিয়ান
পিতাঃ  জমির হোছাইন
মাতাঃ তছলিমা খানম
গ্রামঃ গণ্ডামারা , বাঁশখালী , চট্টগ্রাম।


পরিচালক ও প্রধান সম্পাদকঃ
ফেরোমন প্রকাশন

প্রকাশিত বইঃ
সোরাহি , ২০২১ ( কাব্যগ্রন্থ )
সুরা- দ্য ফ্যানেরোগ্যামস , ২০২১ ( চিরকুট গ্রন্থ )
মননে মল্লিক, ২০২০ ( সম্পাদিত স্মরণিকা। )
চিরকুট- মুসা আল হাফিজ ( ডিজাইন ও সম্পাদনা )
শিহরণ ( যৌথ কাব্যগ্রন্থ ) সম্পাদিত।

www.abdullahtazriyan.com
www.fb.com/tazriyanabdullah
outlook.tazriyan@gmail.com
www.fb.com/mabdullahtazriyan
www.twitter.com/a_tazriyan

No comments

Thanks a lot dear.

Theme images by nicodemos. Powered by Blogger.